Islamic – Mehenaj team https://mehenajteam.xyz Turkishdramabangla dubbed Fri, 24 Jun 2022 18:48:00 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 219686676 কুরবানী কার উপর ফরজ || কুরবানীর পশু কেমন হতে হবে? https://mehenajteam.xyz/2022/06/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%9c-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be.html https://mehenajteam.xyz/2022/06/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%9c-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be.html#respond Fri, 24 Jun 2022 18:48:00 +0000 https://mehenajteam.xyz/2022/06/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%9c-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be/ Read more]]>

কুরবানী কার উপর ফরজ

প্রথমত, আলেমদের কেউই আসলে এই বক্তব্য দেননি। কোরবানি সুন্নত নাকি ওয়াজিব তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
কুরবানী কার উপর ফরজ

একদল উলামা বলেন, এটা সুন্নাত, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। এটা অধিকাংশ আলেমদের বক্তব্য। আরেক দল উলামায়ে কেরাম বলেন, কোরবানি ওয়াজিব। তিন-চারজন উলামায়ে কেহ কুরবানী ওয়াজিব বলেননি।
শরীয়তে যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব তাদের মুসলমান হতে হবে, বিবেকবান হতে হবে, প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে, এগুলো ঠিক হবে।
এর সাথে আরেকটি শর্ত যোগ করতে হবে যে, যে ব্যক্তি ওই দিন কুরবানীর পশু জবেহ করতে সক্ষম হবে সে যেন সেই ব্যক্তির উপর কুরবানী করে। অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এটাই বলেছেন।
কিন্তু যারা ওয়াজিব বলেছেন তারা দুটি কঠিন শর্ত দিয়েছেন। একটি হল, ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে, যার উপর নেসাব পরিমাণ যাকাত ওয়াজিব। অন্যটি হল, সে পথিক হতে পারে না। এ দুটি শর্তে কুরবানী ওয়াজিব।
যদি কোনো ব্যক্তি এ দুটি শর্তের একটিও পূরণ করতে না পারে তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না।
কিন্তু বিশুদ্ধ বক্তব্য হলো, যে হাদীস দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) ওয়াজিবের দলিল দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন কুরবানী করে।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামর্থ্য রেখে গেলেন।
অন্য একটি রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, “যদি সে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী না করে, তাহলে সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মোটেও সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। ব্যাংকে কোরবানির টাকা থাকলে কোরবানি করতে পারেন।

কুরবানী কার উপর ফরজ | কুরবানীর পশু কেমন হতে হবে?

কুরবানীর ফরজ সম্পর্কে আমাদের সবারই ভুল ধারণা রয়েছে। তাই আজ আমরা আপনাদের জন্য কুরবানী কর ফরজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে এসেছি, যাতে আপনারা কুরবানী করার পূর্বে কুরবানীর সকল খুঁটিনাটি জানতে পারেন। তবে একজন মুসলিম হিসেবে কোরবানি করার আগে কোরবানির সব খুঁটিনাটি জেনে নিতে হবে।
একজন মুসলমান যখন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদত করে, তখন তাকে অবশ্যই সেই ইবাদতের নিয়মাবলী এবং ইবাদতের ফলে আল্লাহ কীভাবে তাঁর বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন তার সমস্ত বিবরণ জানতে হবে। অন্যথায় কষ্ট করেই তার ইবাদত করা হবে কিন্তু কোন সওয়াব পাবে না। ফলে সেই পূজা আর পূজা থাকবে না কাজে পরিণত হবে। আমরা সবাই জানি যে কোরবানি একটি ইবাদতের অঙ্গ তাই এই ইবাদত করার আগে আমাদের অবশ্যই কুরবানী সম্পর্কে জানতে হবে এবং আমাদের অবশ্যই কুরবানীর ফরজ জানতে হবে। তো চলুন জেনে নেই কার উপর কুরবানী ওয়াজিব সম্পর্কে।

উপাসকরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য কোরবানি দেয় এবং এটি একটি আর্থিক ও আর্থিক ইবাদতের অংশ। যদি একজন উপাসক নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে তাকে সেই বোতলটি কুরবানী করতে হবে।
ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি হওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন এবং তিনি তাঁর পুত্রের গলায় ছুরি মেরেছিলেন। আল্লাহর হুকুমে তার ছেলেকে কোরবানি করা। অতঃপর মহান আল্লাহর হুকুম পালন ও সন্তুষ্টি লাভের জন্য পিতা-পুত্রের কোরবানি মহান আল্লাহর কাছে সন্তুষ্ট হয়ে ওঠে এবং আল্লাহর পরাক্রমশালী শিশু পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়।
মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর ধৈর্যের পরীক্ষার পর এই অনন্য মহিমাকে স্মরণ করতে ঈদুল আযহার দিন পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে পালিত হয়। অনন্য বলিদান।



যে মুসলমানের নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই ওই মুসলিম ব্যক্তির মূল উদ্দেশ্য। কোরবানি কার উপর ওয়াজিব? এ বিষয়ে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেনঃ
“তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে, অর্থাৎ যার নিসাব পরিমাণ সোনা আছে, সে যেন কুরবানী করে। এবং তিনি ক্রয়ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত বলেননি. তিনি আরও বলেন, কোরবানি ওয়াজিব নয়, কোরবানি ওয়াজিব।
অতএব, আপনি পশু কোরবানির বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। হাদিস ও ইসলামী পণ্ডিতদের মতামত অনুযায়ী, যদি আপনার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তবে আপনাকে অবশ্যই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কোরবানি করতে হবে।

কোরবানি সুন্নাত না ওয়াজিব

আপনি ইতিমধ্যেই জেনেছেন যে, কেউ যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাহলে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ঈদুল আযহার পশু কোরবানি করতে হবে। কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কোরবানি ওয়াজিব কিন্তু তা ফরজ বা সুন্নাত নয়।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আদেশে এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি দেওয়া হয়। তাই একজন মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে মহান আল্লাহর নির্দেশনা ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের কথা ভাবতে হবে। সেই সাথে পশু কোরবানি ওয়াজিব, সুন্নত নাকি ওয়াজিব তা নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সর্বশক্তিমানের নির্দেশ অনুসারেই দিতে হবে। যেহেতু হাদীসের কোথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়নি যে কোরবানি ওয়াজিব কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন যে কোরবানি ওয়াজিব।
তাই কোরবানি ওয়াজিব বলে গণ্য হবে।

কত টাকা থাকলে কোরবানি দিতে হবে?

যেহেতু কুরবানী আতিক ও আর্থিক ইবাদতের একটি অংশ, সেহেতু কুরবানীর জন্য কত টাকা প্রয়োজন বা কুরবানীর জন্য কত টাকা ব্যবহার করা উচিত তা নিয়ে আপনার চিন্তা করা স্বাভাবিক। এই সাধারণ সাধারণ প্রশ্নটি বোধগম্য হওয়া উচিত। সাধারণভাবে বলতে গেলে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের মালিককে এখন স্টুডিওতে বলি দিতে হবে। কিন্তু এখানে একটি প্রশ্ন আছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বলতে কী বোঝায়?
আমরা সকলেই জানি যে, ইবাদতকারীদের অন্যতম ইবাদত হলো যাকাত প্রদান করা। যাকাত প্রদানের জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ বা অর্থের মালিক হতে হবে, যেভাবে কুরবানী করার পূর্বে নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ বা অর্থের মালিক হতে হবে।
তবে কোরবানি করার সংকল্প করার পর যে পরিমাণ অর্থ বা সম্পদের মালিক হতে হবে সে সম্পর্কে আমরা আপনাকে যে তথ্য দেব তা অবশ্যই কোরআন, হাদিস ও ইসলামিক স্কলারদের কাছ থেকে পেতে হবে।
একজন মুসলিম ব্যক্তির পরিবারের যাবতীয় খরচ মেটানোর পর যদি জিলহজ মাসের 10 ও 12 তারিখে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ বা রূপা থাকে এবং সেই স্বর্ণ-রৌপ্যের বর্তমান বাজার মূল্য 50,000 থেকে 4 লাখ টাকা হয়, তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। অর্থাৎ জিলহজ মাসের 10 ও 12 তারিখে কোরবানির পশু জবাই করা হয় এবং এই সময়ে কোনো ইবাদতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সেই ব্যক্তির ওপর কুরবানী করতে হবে।
নিসাব অর্থ সম্পদ- কারো কাছে যদি সাড়ে ৮ টন সোনা বা ৫২ টন রূপা বা তার অমূল্য সম্পদ থাকে, তবে এক বছর অন্যের ওপর মালিকানার পর সেই ব্যক্তি কুরবানী হবে।
কিন্তু এই সম্পদের কতটুকু কুরবানীতে ব্যয় হবে তার একটি অনুমান বর্তমান বাজার মূল্য হিসাবে নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হল-
যদি কোনো ব্যক্তির নিসাব পরিমাণ সাড়ে সাত ভরি/তোলা স্বর্ণ বা ৫০ তোলা রূপা থাকে, তবে তার বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী সেই স্বর্ণ বা টাকার মূল্য যদি ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা হয়, তাহলে কুরবানী করতে হবে। প্রয়োজনীয়
2022 সালের জন্য প্রতি ক্যারেট সোনার দাম নিম্নলিখিত টেবিলে উপস্থাপন করা হয়েছে-

২২ ক্যারেট সোনার ওজন ৭২ হাজার টাকা হলে নিসাবের পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে ৮ ভরি সোনার পরিমাণ হবে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

২১ ক্যারেট সোনার ওজন ৬৯ হাজার টাকা হলে নিসাবের পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে ৮ ভরি সোনার দাম হবে ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

১৮ ক্যারেট সোনার ওজন ৭০ হাজার টাকা হলে সাড়ে ৮ ভরি সোনার দাম হবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।


সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী স্বর্ণ প্রতি আউন্স ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা হলে নিসাবের পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে ৮ আউন্স সোনা হবে ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

2022 সালের জন্য প্রতি ক্যারেট রূপার দাম নিম্নলিখিত সারণীতে উপস্থাপন করা হয়েছে-

২২ ক্যারেট রূপার ওজন ১ হাজার ৫১৮ টাকা হলে নিসাবের পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে ৫২ ভরি রূপার হবে ৬৯ হাজার ৫৯০ টাকা।

২১ ক্যারেট রূপার ওজন ১ হাজার ৪৩৫ টাকা হলে নিসাবের পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে ৫২ ভরি রূপার হবে ৬৫ হাজার ৩৩৮ টাকা।

18 ক্যারেট রূপার ওজন 1 হাজার 225 টাকা হলে, 52 ক্যারেট রূপার দাম হবে 64 হাজার 312 টাকা।


সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী রূপার ওজন ৯৩৩ টাকা হলে নিসাবের পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে ৫২ ভরি রূপার হবে ৪৭ হাজার ৯৮২ টাকা।

কুরবানীর পশু কেমন হতে হবে?

যে ব্যক্তির নিসাব পরিমাণ সম্পত্তির মালিক সে ব্যক্তি কে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে। আর এই কুরবানী দেয়ার জন্য অবশ্যই নির্দিষ্ট পশু বাছাই করতে হবে। তাই আপনারা যাতে কোরবানি দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পশু বাছাই করতে পারেন তার জন্য কোরবানির পশু কেমন হতে হবে তা সম্পর্কিত কিছু মাসআলা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো-

১ নম্বর মাসআলা:

কোরবানির পশু  হবে না। যদিও  বন্য গরু, নীলগাই, গোয়াল এবং হরিণের মাংস হালাল কিন্তু যেহেতু এ রাবনে বসবাস করে সেহেতু এ ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ হবে না। তাই এ ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি দেয়া যাবে না। ( বাদায়েউস সানায়ে ৫/৬৯)।

২ নম্বর মাসআলা:

কুরবানি দেয়ার জন্য মূলত ছয় ধরনের পশু ব্যবহার করা যায়। যেমনঃ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, উট এবং দুম্বা। এছাড়া কোন কোন পশু দিয়ে কোরবানি দেয়া সহি হবে না। ( ফতোয়ায়ে কাজী খান ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫; আল হিদায়া ৪/১৫০)।

৩ নম্বর মাসআলা:

গরু এবং মহিষ কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে গরু-মহিষের বয়স কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে এবং এর কম হলে কোরবানি দেয়া জায়েজ হবে না। (সুনানে নাসায়ী ৪৩৭৮ হাদীস; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫)।

৪ নম্বর মাসআলা:

ছাগল, ভেড়া এবং দুম্বা কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের কমপক্ষে এক বছর হতে হবে এবং তাদের বয়স যদি এক বছরের কম হয় তাহলে তাদের কোরবানি দেয়া জাহেদ হবে না। (সুনানে আবু দাউদ ২৭৯৯; সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৩৯ ; ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮)।

৫ নম্বর মাসআলা:

উট কুরবানি দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই উট এর বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। এরকম হলে উট কোরবানি দেয়া জায়েজ হবে না। (ইলাউস সুনান ৭/২৪৫; ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮)।

৬ নম্বর মাসআলা:

কুরবানি দেয়ার ক্ষেত্রে যে ৬ টি পশু নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে এই পশুগুলো অবশ্যই সুস্থ সবল এবং নির্ধারিত বয়সের হতে হবে। কুরবানি দেয়ার ক্ষেত্রে কোন অসুস্থ নির্ধারণ করা যাবে না এবং এই পশুগুলোর যদি কোনো খুঁত থেকে থাকে তাহলে সেই পশু গুলো নির্ধারণ করা যাবে না। (শামী ৬/৩২৩; আল বাহরুর রায়িক ৮/৩২৪; কাজী খান কাজীখান ৩/৩৫২; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭৫)।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কুরবানী

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে কুরবানী করার ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে কিনা তা জানা আবশ্যক।

যদি কোন ব্যক্তি কুরবানী করার সময় ঋণ পরিশোধ করে এবং তার সম্পদের নিসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না। আর যদি ঐ ব্যক্তির কুরবানীর সময় নির্দিষ্ট ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ টাকা থাকে, তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর কুরবানী করতে হবে এবং তা ওয়াজিব হবে।

তবে কোনো মুসলমানের যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এবং তার কাছে ঋণের পরিমাণ সামান্য থাকে যা ঋণ পরিশোধের ফলে সম্পদের নিসাব পরিমাণে কোনো প্রভাব ফেলবে না, তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা আবশ্যক হবে।

সুতরাং এক কথায় বোঝা যায় যে, যদি কোনো ব্যক্তির ঋণ থাকে যা সম্পদের নিসাব পরিমাণকে প্রভাবিত করে তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব নয় এবং যদি সেই ব্যক্তির নিসাবের পরিমাণ সম্পদের ওপর প্রভাব না ফেলে তাহলে তাকে অবশ্যই কুরবানী করতে হবে। বলিদান

আমি আশা করি যে সকল মুসলিম ভাই ও বোনেরা যারা কুরবানী কর ফরজ 2022 সম্পর্কে জানতে চান তারা সঠিক উত্তর পেয়েছেন এবং জানেন যে কুরবানী মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে এবং এটি একটি ইবাদত হিসাবে বিবেচিত হবে। কোরবানির আরও কিছু দিকও আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। আপনি যদি আমাদের কাছ থেকে কুরবানী সম্পর্কে আরও জানতে চান তবে আপনি আমাদের মন্তব্যে জানাতে পারেন। জায়াকাল্লাহু খাইরান।

]]>
https://mehenajteam.xyz/2022/06/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%9c-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be.html/feed 0 653
তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল https://mehenajteam.xyz/2022/03/29/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a8.html https://mehenajteam.xyz/2022/03/29/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a8.html#respond Tue, 29 Mar 2022 18:50:00 +0000 https://mehenajteam.xyz/2022/03/29/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a8/ Read more]]>  তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল
মাহে রমজানের নফল ইবাদতের মধ্যে ইতিকাফের সময় তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আরবি ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ রাত জাগরণ বা নিদ্রা ত্যাগ করে রাতে নামাজ পড়া। শরিয়তের পরিভাষায় রাত দ্বিপ্রহরের পর ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নামাজ আদায় করা হয় তা-ই ‘সালাতুত তাহাজ্জুদ’ বা তাহাজ্জুদ নামাজ। বছরের অন্যান্য সময়ের মতো রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামাজের ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। তাহাজ্জুদ নামাজ যেকোনো সময়ই অত্যধিক ফজিলতের কারণ। রমজান মাসে এর সুফল বহুগুণ বেড়ে যায়।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল। তাই তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত হননি। তবে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এটা সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ এ নামাজ আদায় করলে অশেষ পুণ্য লাভ করা যায়, কিন্তু আদায় করতে না পারলে কোনো গুনাহ হবে না। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়তের সঙ্গে সওয়াবের আশায় মাহে রমজানের রোজা পালন করে, তার বিগত জীবনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় মাহে রমজানের রাতে কিয়াম করে, তার বিগত দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম বা রাত জেগে ইবাদত করে, তার বিগত জীবনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রমজান মাস ও অন্যান্য সময় তাহাজ্জুদ নামাজ রাত দ্বিপ্রহরের পরে পড়তে হয়। মধ্যরাতে যখন লোকেরা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন, তখন রোজাদার মুমিন বান্দা ঘুম থেকে জেগে ইবাদত-বন্দেগি করেন এবং সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। সুবহে সাদিক হয়ে গেলে এ নামাজ আর পড়া যায় না। যদি রাত দ্বিপ্রহরের পর নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে এশার নামাজের পর এবং বিতরের আগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে হয়। অবশ্য তাহাজ্জুদ নামাজ রাত দ্বিপ্রহরের আগে পড়লে সওয়াব কম পাওয়া যায়। রাতের শেষাংশে পড়লে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়।
মাহে রমজানসহ বিভিন্ন সময় তাহাজ্জুদ নামাজ চার রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজ কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত পড়েছিলেন। তাই রোজাদার ব্যক্তির তাহাজ্জুদ নামাজ কমপক্ষে ৪ রাকাত আদায় করা উচিত। কিন্তু যদি কেউ এ নামাজ ২ রাকাত আদায় করেন, তাহলেও তাঁর তাহাজ্জুদ আদায় হবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এশার পর দুই বা ততোধিক রাকাত নামাজ পড়ে নেয়, সে হবে তাহাজ্জুদের ফজিলতের অধিকারী।’
রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কালে পবিত্র কোরআনের আয়াত খুব বেশি তিলাওয়াত করা উত্তম। যদি দীর্ঘ সূরা মুখস্থ থাকে, তাহলে তাহাজ্জুদ নামাজে দীর্ঘ সূরা তিলাওয়াত করা উত্তম। ১২ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজের প্রথম রাকাতে সূরা আল-ইখলাস ১২ বার, দ্বিতীয় রাকাতে ১১ বার, তৃতীয় রাকাতে ১০ বার, চতুর্থ রাকাতে ৯ বার অনুসারে দ্বাদশ রাকাতে একবার পড়তে হয়। আবার প্রত্যেক রাকাতে সূরা আল-ইখলাস ৩ বার অথবা ১ বার হিসেবেও পড়া যায়। আবার সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াতুল কুরসি এবং সূরা আল-ইনশিরাহও পড়া যায়।
মাহে রমজানে দিবাভাগে পানাহার বর্জন করে রোজা পালনের পর গভীর রাতে নিদ্রাসুখ ত্যাগ করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত সব নফল ইবাদত অপেক্ষা অধিক এবং এটি আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। এ জন্য আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর এ নামাজ ফরজ করে দিয়েছিলেন। রোজাদার ব্যক্তি যদি তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, আল্লাহ তার পাপরাশি মার্জনা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার প্রভু প্রত্যেক রাতের শেষাংশে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, যে কেউ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তা কবুল করব, যে কেউ কিছু প্রার্থনা করবে, আমি তা প্রদান করব, যে কেউ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রমজান মাসে রাত জাগরণ করে যাঁরা তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং অপরকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন, তাঁরা আল্লাহর অপার রহমতের মধ্যে বিচরণ করেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং তাঁর স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেন। অতঃপর তিনি (তাঁর স্ত্রী) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এমনকি যদি তিনি (স্ত্রী) ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না চান, তাহলে তাঁর মুখে পানি ছিটিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ ও নাসাঈ) রোজাদার তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি অধিক সম্মানের অধিকারী হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে আল কোরআনে অভিজ্ঞ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি সম্মানের অধিকারী হবেন।’ (বায়হাকি)
তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো বিনা ওজরে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ছাড়তেন না। সাহাবিগণও রমজান মাসে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। অথচ রোজার মাসে ঐচ্ছিক ইবাদতের দরজা খোলা থাকা সত্ত্বেও বহু মিথ্যাবাদী ও পরনিন্দাকারী রোজাদার রাত জেগে তারাবি ও তাহাজ্জুদ গুজারের ভাগ্যে ক্ষুধা, পিপাসা এবং রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না। রমজান মাসে যেহেতু শেষ রাতে সেহির খাওয়ার জন্য জাগতেই হয়, আর সেহির খাওয়ার আগ পর্যন্ত শেষ রাত একান্ত দোয়া কবুলের সময়; তাই একটু আগেভাগে উঠে সেহিরর আগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের ও সওয়াব প্রাপ্তির সুবর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত।
নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।
আপনার জিজ্ঞাসার ৬১৪তম পর্বে তাহাজ্জুদ নামাজ নফল নাকি সুন্নত, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন শিউলি। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

তাহাজ্জুদ নামাজ নফল নাকি সুন্নত?

উত্তর : তাহাজ্জুদ সালাত সুন্নত এই অর্থে যে রাসুল (সা.) পড়েছেন। রাসুল (সা.)-এর যেকোনো আমল আল্লাহর বান্দাগণ অনুসরণ করলে সেটা সুন্নাহ। আর ফরজ ছাড়া যত ইবাদত রয়েছে, সবই নফল ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তাই আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে ফরজ বলে ঘোষণা করেছেন। এ ছাড়া যত সালাত আছে, সব নফল বা অতিরিক্ত। সুতরাং নফল সালাত হুকুমের মধ্যে আসেনি। সুন্নাহকে ওলামায়ে কেরামগণ হুকুমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। হুকুম হলো বিধান।
রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দুই প্রকার। একটা হলো, সেই সুন্নাহ যার ওপর গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়েছে। আরেকটা হলো, অতিরিক্ত সুন্নাহ হিসেবে যে সুন্নাহ প্রমাণিত হয়েছে। তাহাজ্জুদ এই পর্যায়ের সালাত। তাহাজ্জুদ সালাত নফল এই দিক থেকে, যেহেতু এটা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। আর যেহেতু রাসুল (সা.) আদায় করেছেন, সেহেতু এটি সুন্নাহ।
আপনার মনে কি প্রশ্ন রয়েছে তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল ? তাহাজ্জুদের নামাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি নামাজ। এই নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে।
বর্তমান সময়ে এই নামাজ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে বলছেন তাহাজ্জুতের নামাজ সুন্নত আবার অনেকে বলছেন তাহাজ্জুতের নামাজ নফল।
মতানৈক্য ছড়িয়ে পড়ছে। আজ আমি তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল এ ব্যাপারে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব।
পাশাপাশি দলিল-আদিল্লা নিয়ে আলোচনা করব। যাতে করে কোনো ধরনের সংশয় না থাকে।

তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল

তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল
প্রশ্নটির উত্তর জানার আগে আমাদের একটি ভূমিকা জানতে হবে। তাহলে আপনাদের উত্তরটি বুঝতে সহজ হবে।
সুন্নাত কত প্রকার ?
সুন্নত দুই প্রকার :
১. সুন্নতে মুয়াক্কাদা : এই সুন্নতের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছেড়ে দিলে গুনা হবে। যেমন :
ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত রয়েছে।
যোহরের আগে চার রাকাত এবং যোহরের পরে দুই রাকাত।
মাগরিবের পরে 2 রাকাত।
এশারের পর দুই রাকাত।
এসমস্ত নামাজ হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। এগুলো ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে।
২. সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদা : যদি এই সুন্নাত গুলো আদায় করা হয় তাহলে সওয়াব হবে। আর যদি ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে গুনা হবে না। এই প্রকারের সুন্নত গুলোকে নফল ও বলা হয়। যেমন :
আসরের আগে চার রাকাত সুন্নত।
তাহাজ্জুদের নামাজ।
ইশরাকের নামাজ।
চাশতের নামাজ। ইত্যাদি।
বিস্তারিত উত্তর এ সম্পর্কে
তাহাজ্জুদের নামাজ হলো সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদা। তাই একে নফল ও বলা যায়। আমাদের নবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম থেকে চার রাকাত , ৬ রাকাত , ৮ রাকাত, ১০ রাকাত ইত্যাদি প্রমাণিত।
তবে আপনি কম ও পড়তে পারবেন আবার বেশি ও পড়তে পারবেন । কারণ এটা নফল তাই আপনার ইচ্ছামত পড়তে পারবেন। তবে সবচেয়ে উত্তম হল ৮ রাকাত পড়া।
দলিল : হযরত আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা কে জিজ্ঞাসা করে বলেন :
আমাদের নবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রমজানের নামাজ কেমন হতো ? হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা উত্তরে বললেন:
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান এবং রমজানের বাহিরে 11 রাকাতের বেশি নামাজ পড়তেন না। প্রথমে ৪ রাকাত নামাজ পড়তেন। যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না ।
এরপর আরও চার রাকাত নামাজ পড়তেন। যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য । এরপর ৩ রাকাত নামাজ পড়তেন। (বুখারী শরীফ ১/১৫৪) , (মুসলিম শরীফ ১/২৫৪) , (নাসাঈ শরীফ ১/২৪৮)
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা এটাই বুঝা যায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আট রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তেন।
পরিশেষে বলব : তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়ে গিয়েছেন।
যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন । আরো কোন প্রশ্ন জানার থাকলে প্রশ্ন করবেন।ধন্যবাদ।
]]>
https://mehenajteam.xyz/2022/03/29/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a8.html/feed 0 1179
তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল https://mehenajteam.xyz/2022/03/29/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95.html https://mehenajteam.xyz/2022/03/29/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95.html#respond Tue, 29 Mar 2022 18:36:00 +0000 https://mehenajteam.xyz/2022/03/29/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95/ Read more]]>  তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল
পাঠক বৃন্দ আপনাদের সবাইকে জানাই আসসালামু আলাইকুম রাহমাতুল্লাহে বারাকাতুহু । কেমন আছেন আপনারা সবাই ? আশা করি অনেক ভাল আছেন । আলহামদুলিল্লাহ আমরা অনেক ভালো আছি । আজকে আমরা আপনাদের মাঝে তারাবির নামাজ সুন্নত না নফল | 
তারাবির নামাজ কিভাবে পড়তে হয় প্রাণ। ইসলাম প্রিয় ভাই ও বোনেরা তারাবির নামাজ সুন্নত না নফল বিষয়টি আমরা খুবই সুন্দর ভাবে আমাদের সাইটে প্রকাশ করছি। আপনারা অবশ্যই ধৈর্য সহকারে আমাদের পুরো পোস্টটিি পড়বেন।
তারাবীহের নামাজ এবং তার হুকুম এই পবিত্র মাসে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য শরীয়ত হিসেবে যা পেশ করেছেন তম্মধ্যে তারাবীর নামাজ একটি। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। মানুষ প্রতি চার রাকাত পর আরাম করে তাই এ নামাজকে তারাবীহ বলা হয়।
 তারাবীহ দুই রাকাত দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়। তাহাজ্জুদও অনুরূপ। কোন কোন মসজিদের ইমাম না বুঝে ভুল করেন। তারা দুই রাকাতের পর তারাবীহ অথবা তাহাজ্জুদ কোনটিতেই সালাম ফিরান না। এটা সুন্নাতের খেলাফ। ওলামাগণ বলেছেন যে, যে ব্যক্তি তারাবীহ অথবা তাহাজ্জুদের তৃতীয় রাকাতের জন্য দাড়িয়ে যায় সে যেন ফজর নামাজের তৃতীয় রাকাতে দাড়ালো। অর্থাৎ তার নামাজ বাতিল বলে গণ্য হবে। তারাবীহ জামাআতে মসজিদে আদায় করা উত্তম। ন
বী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ নামাজ মসজিদে পড়েছেন। তার সাথে লোকজনও নামাজ আদায় করেছে। আগমনকারী পরবর্তী রাতেও তিনি নামাজ পড়লেন। লোকজনও হয়েছিল বেশি। তার পর লোকজন তৃতীয় কিংবা চুতুর্থ রাত্রিতে একত্রিত হলো অথচ আল্লাহর রাসূল তাদের নিকট আসেননি।সকাল বেলা তিনি লোকদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা যা করেছ আমি তা দেখেছি, আমার বের না হওয়ার কারণ হলো, আমার ভয় হচ্ছিল যে, এ নামাজ তথা তারাবীহ তোমাদের জন্য ফরয হয়ে যাবে। (বুখারী: ১১২৯ মুসলিম : ৭৬১) বর্ণনাকারী বলেন, এ ঘটনা রমজান মাসে হয়েছিল। তার পর সাহাবা আজমাঈন তারাবীহ আদায় করেছেন। এবং সমস্ত উম্মত তা গ্রহণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু

তারাবির নামাজ কিভাবে পড়তে হয় 

তারাবীর রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা পাওয়া যায় না। বরং এতে স্বাধীন সুযোগ রয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন : নামাজী ব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী ২০ রাকাত পড়বে। এটি শাফী রহ. এবং আহমদ রহ এর প্রসিদ্ধ মত। ইচ্ছে হয় ৩৬ রাকাত পড়বে। এটা ইমাম মালেকের মত। ইচ্ছে হয় ১১,১৩ পড়বে, সব ক’টিই সঠিক আছে। রাকাত কম হলে কিয়াম লম্বা হবে আর কিয়াম স্বল্প হলে রাকাত বেশি হবে। 
তারাবী নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। (তবে পুরুষ মসজিদে জামাতের সাথে আর মহিলাগণ ঘরে পড়বে।) কেননা খোলাফায়ে রাশেদীন (বিশেষ করে উমর রাযি.-এর খেলাফতের শেষ জামানা থেকে) মুয়াযাবাত তথা নিয়মিত তারাবী নামায পড়তেন। আর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন যে, عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي عضوا عليها بالنواجذ “তোমরা আমার সূন্নাতকে আঁকড়ে ধর এবং 
খোলাফায়ে রাশেদীনের সূন্নাতকে আঁকড়ে ধর। তার উপর তোমরা অটুট থাক।” (আবু দাউদ ৪৬০৭, তিরমিজী ২৬৭৬)
তারাবী নামায সুন্নত হওয়াকে যে অস্বীকার করবে অথবা অবৈধ মনে করবে সে বিদআতের আবিস্কারক, পথভ্রষ্ট। আর তাহতাবী কিতাবে রয়েছে যে তারাবী নামায সুন্নত, এই নামায বর্জন ও ছেড়ে দেওয়া জায়েয নাই। (কামুসুল ফিকহ ২/৪৪৮)
মাহে রমজানে রাত্রিকালে এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, একে ‘তারাবি নামাজ’ বলা হয়। আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। তারাবি নামাজ পড়াকালে প্রতি দুই রাকাত বা চার রাকাত পরপর বিশ্রাম করার জন্য একটু বসার নামই ‘তারাবি’। দীর্ঘ নামাজের কঠোর পরিশ্রম লাঘবের জন্য প্রতি দুই রাকাত, বিশেষ করে প্রতি চার রাকাত পর একটু বসে বিশ্রাম করে দোয়া ও তসবিহ পাঠ করতে হয় বলে এ নামাজকে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বা তারাবি নামাজ বলা হয়।
রমজান মাসের জন্য নির্দিষ্ট তারাবি নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার খতম করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তারাবি নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা ও কোরআন শরিফ খতম করা অধিক সওয়াবের কাজ। তবে ঘরে সূরা-কিরাআতের মাধ্যমে আদায় করলেও সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবি নামাজের জন্য রাতের কোনো বিশেষ সময়কে নির্দিষ্ট করে দেননি। তবে তারাবি নামাজ অবশ্যই এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে আদায় করতে হবে।
নবী করিম (সা.) বেশির ভাগ সময় রাতের শেষাংশে তারাবি আদায় করতেন এবং প্রথমাংশে বিশ্রাম নিতেন। তিনি কখনো আট রাকাত, কখনো ১৬ রাকাত, আবার কখনো ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু বিশেষ কারণবশত নিয়মিত ২০ রাকাত পড়তেন না। কেননা, তিনি কোনো কাজ নিয়মিত করলে তা উম্মতের জন্য ওয়াজিব তথা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে যায়। এ করুণা দৃষ্টির কারণে তিনি তাঁর আমলে প্রতিনিয়ত ২০ রাকাত পূর্ণ তারাবি জামাত হতে দেননি। যার দরুন সালাতুত তারাবিহ সুন্নত, ওয়াজিব নয়; তবে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা জরুরি সুন্নত। ২০ রাকাত তারাবি নামাজ হওয়ার সপক্ষে দলিল সহিহ হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, ‘নবী করিম (সা.) রমজান মাসে বিনা জামাতে (একাকী) ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করতেন, অতঃপর বিতর নামাজ পড়তেন।’ (বায়হাকি)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর তারাবি নামাজ ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকেনি। তাই তারাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব হজরত ওমর (রা.)-এর আমলে কার্যকর হয়। ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবুবকর (রা.) ও দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালেও তারাবি নামাজ ২০ রাকাত পড়া হতো। হজরত ওমর (রা.) মসজিদে নববিতে সাহাবিদের খণ্ড খণ্ড জামাতে ও একাকী তারাবির নামাজ পড়তে দেখে সবাই মিলে এক জামাতে তারাবি পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে সাহাবিদের ইজমা দ্বারা মূলত রমজান মাসের মধ্যে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করার রীতির প্রচলন হয়।
মহানবী (সা.) রমজান মাসে তারাবি নামাজ আদায় করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করতেন। তারাবি নামাজের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াব প্রাপ্তির আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে, তার অতীতকৃত পাপগুলো ক্ষমা করা হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম) মাহে রমজানে রোজা, তারাবি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতের দরুন আল্লাহ তাআলা রোজাদার ব্যক্তির আগের সব গুনাহ মাফ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান ও আত্মবিশ্লেষণের সঙ্গে পুণ্য লাভের আশায় রোজা রাখেন, তারাবি নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তাঁর জীবনের পূর্বের সব গুনাহ মাফ করা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা তারাবি নামাজ আদায় করতেন। তবে তিনি মাত্র চার রাত তারাবি নামাজ জামাতে পড়েছিলেন; কারণ যদি তিনি সর্বদা জামাতে তারাবি নামাজ আদায় করেন, তাহলে তাঁর উম্মতেরা ভাববেন যে হয়তো এ তারাবি নামাজ ফরজ। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই রাতে ২০ রাকাত করে তারাবি নামাজ পড়িয়েছেন। তৃতীয় রাতে লোকজন জমা হলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) উপস্থিত হননি। পরদিন সকালে তিনি ইরশাদ করলেন, ‘আমি তোমাদের ওপর তারাবি নামাজ ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছি। তখন তো তা তোমাদের জন্য কষ্টকর হবে।’ তাই দৈহিক বা মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে ২০ রাকাত অথবা কমপক্ষে আট রাকাত তারাবির সুন্নত নামাজ পড়ার সুযোগ আছে।
তারাবি নামাজের জামাতে পবিত্র কোরআন খতম করা হয়, তাই জামাতে তারাবি নামাজ পড়লে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। রমজান মাসে তারাবি নামাজের কিয়াম হলো আল্লাহর রাস্তায় আরামকে হারাম করে কঠোর পরিশ্রম করার শপথ অনুষ্ঠান। তারাবি নামাজের প্রতিটি মুহূর্ত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শ্রবণ ও আল্লাহকে স্মরণ ও জীবনে সফলকাম হওয়ার জন্য স্রষ্টার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাগুলো ফরজ করেছেন এবং এর রাতে তারাবি নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হওয়াকে অশেষ পুণ্যের কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।’
মাহে রমজানের রাতে তারাবি নামাজ জামাতে আদায়ের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রতিদিন মসজিদে সমবেত হন। দেশের প্রতিটি মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতমে তারাবি পড়ার লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ রোজার প্রথম ছয় দিন দেড় পারা করে ও পরে লাইলাতুল কদর পর্যন্ত বাকি ২১ দিন এক পারা করে তিলাওয়াত করার পরামর্শ দিয়েছে। যেন স্থ্থান পরিবর্তন করলেও কোনো মুসল্লি খতমে তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াতে শরিক হওয়ার ধারাবাহিকতা থেকে বঞ্চিত না হন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ ও দাওয়াহ বিভাগ, ধর্মবিজ্ঞান অনুষদ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
আজ আলোচনা করব তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি  নফল। এবং তারাবির নামাজ কত রাকাত এবং কীভাবে পড়বেন তাও আলোচনা করব। আমরা অনেকেই এই নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি। আজ আমি আপনাদের সন্দেহ দূর করবো ইনশাআল্লাহ। রমজান মাস হচ্ছে আমাদের পবিত্র মাস। কোরআনে এ মাসকে আল্লাহতালা শ্রেষ্ঠ মাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
এই রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এই মাসকে ফজিলতের দিক থেকে অন্যান্য মাস থেকে উত্তম। রোজাকে এই মাসে ফরজ করা হয়েছে। তাই আমরা সবাই এিশ দিন রোজা রাখি।
সালাতুত তারাবিহ রমজান মাসের একটি নামাজ।রোজার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হলো তারাবির নামাজ। তারাবির নামাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম পড়েছেন।এবং সাহাবাদের ও নির্দেশ দিয়েছেন পড়ার জন্য।
আমরা অনেকেই জানি না তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল। এই নামাজ নারী-পুরুষ সবার জন্যই সুন্নতে মুয়াক্কাদা। জামাতের সাথে আদায় করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
এই নামাজে কোরআন শরীফ খতম করার সওয়াব পাওয়া যায়। সূরা কেরাতের মাধ্যমে আপনি আদায় করতে পারবেন। তাতেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়।কোরআন মাজিদের  পাঁচশত চল্লিশ রুকুতে বলা হয়েছে।
তারাবির নামাজে কুরআন খতম লাইলাতুল কদর রাতের পূর্বে যাতে সমাপ্ত করা হয়।এ ব্যাপারে ইমামদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন। 

হাদিসের আলোকে তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল

রমজান মাসের রাতে এশার নামাজের পর। এবং দুই রাকাত সুন্নতের পর। এবং বিতর নামাজের আগে। আমরা দুই রাকাত করে  বিশ রাকাত নামাজ পড়ে থাকি। এই নামাজকে তারাবির নামাজ বলা হয়। তারাবীহ শব্দটি রাহাতুন থেকে আগত।
এর শাব্দিক অর্থ হলো আরাম করা।আমরা তারাবির নামাজ পড়ার সময় দুই রাকাত পর। অথবা চার রাকাত পর আমরা আরাম করি। অর্থাৎ দোয়া- দুরুদ পড়ি। তাই এর নাম তারাবি। আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করবে, সে পথভ্রষ্ট। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধর এবং খোলাফায়ে রাশেদীন এর সুন্নতকে আঁকড়ে ধর। তারাবির নামাজ কোন সময় পড়তে হবে। 

তারাবির নামাজের সময় জানুন এবং পড়ুন

সময় নিয়ে রাসুল সাঃ নির্দিষ্ট করেননি।তবে তারাবির নামাজ এশার নামাজের পরে এবং ফজরের আগে যে কোন সময় পড়তে হবে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ রাতের শেষভাগে আদায় করতেন। কারণ রাতের প্রথম দিকে তিনি আরাম করতেন।

তারাবির নামাজ বিশ রাকাত না ষোল রাকাত জেনে নিন

তারাবির নামাজ বিশ রাকাত না চার রাকাত এই ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট হাদিস নেই।  কেননা রাসুল সাঃ মাঝে  মাঝে আট রাকাত অথবা ষোল অথবা বিশ রাকাত তারাবি আদায় করতেন। কিন্তু নিয়মিত বিশ  রাকাত আদায় করতেন না।
কারণ তিনি যদি নিয়মিত করতেন, তা  মানবজাতির জন্য অত্যাবশ্যকীয় হত। তাই রাসুল সাঃ এর আমলে বিশ  রাকাত জামাত হয়নি।তাই এই নামায ওয়াজিব নয়। তবে তা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে।রাসুল সাঃ বিশ রাকাত তারাবি জামাত বিহীন আদায় করতেন। তারপর বিতর নামায আদায় করতেন। এই হাদিসটি বায়হাকী গ্রন্থের হাদিস। 

তারাবির নামাজ নিয়মিত বিশ রাকাত পড়ার সময়কাল

রাসুল সাঃ এর ইন্তেকালের পর এই নামাজ ওয়াজিব হওয়ার আশঙ্কা নেই। তাই হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু  তা’আলা এর আমলে এই নামাজের প্রতি জোর দেওয়া হয়।হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা এবং হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা এর সময়ে তারাবি বিশ রাকাত পড়া হতো।
তার আমল থেকেই এই রীতি শুরু হয়। একদা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সাহাবীদের একা একা নামাজ পড়তে দেখলেন।তারপর জামাতে আদায় করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।তার আমলে বিশ রাকাত পড়ার নিয়ম প্রচলন হয় ইজমা দ্বারা। 

তারাবির সুন্নত নামাজের ফযিলত অনেক

রাসুল সাঃ রমজান মাসে তারাবি নামাজ  আদায় করার অনুপ্রেরণা দিতেন। এর ফজিলত সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় রমজানের রজনীতে তারাবি নামাজ পড়ে,তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়”।
এই হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি রমজান মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখে। তারাবির নামাজ আদায় করে।এবং কোরআন তেলাওয়াত করে। আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেন।
হযরত মুহাম্মদ সাঃ ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও আত্মান্বেষণের সঙ্গে নেক পাওয়ার আশায় রোজা রেখে, তারাবির নামাজ আদায় করে এবং কদর রাতে সারারাত ইবাদত করে,আল্লাহ তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেন”। এই হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে।হযরত মুহাম্মদ সাঃ সব সময় তারাবির নামাজ পড়তেন। 

রাসূল সাঃ কত রাত জামাতে আদায় করেছিলেন

তিনি চার রাত জামাতে আদায় করেছিলেন। কেননা সর্বদা পড়লে, উম্মতেরা ভাবতো ফরজ। হাদিসে আছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টানা দুই দিন বিশ রাকাত নামাজ আদায় করেছিলেন।
কিন্তু তৃতীয় রাতে সবাই আসলেও তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।পরদিন সকালে তিনি সবাইকে বললেন, “আমি তোমাদের উপর তারাবির নামাজ ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনুভব করেছিলাম।
পরে তোমাদের জন্য তা কঠিন হতো। আমরা এই হাদিস থেকে অনুধাবন করতে পারি তারাবির নামাজ নফল নয়। এই নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আপনি সর্বনিম্ন ৮ রাকাত থেকে শুরু করে ২০ রাকাত পর্যন্ত আদায় করতে পারেন।
আমরা জানি বড় বড় মসজিদ গুলোতে তারাবির নামাজে জামায়াতে কুরআন খতম দেওয়া হয়।তাই আপনি যদি জামাতের সাথে আদায় করেন। তাহলে আপনি বেশি সওয়াবের অধিকারী হবেন।
তারাবি নামাজের ফজিলত অনেক বেশি। এই আমাদের প্রত্যেকটা মুহূর্ত কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে অতিবাহিত হয়। এই নামাজে আল্লাহর প্রিয় হওয়া যায়।
হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন ,আল্লাহ তা’আলা রোজা বাধ্যতামূলক করেছেন এবং তারাবির নামাজে দাঁড়ানো তা ভাল কাজ হিসেবে ঘোষনা করেছেন। রমজান মাসের তারাবির নামাজ আমাদের জন্য একটি নেয়ামত।
প্রকৃতপক্ষে রমজান মাস  আমাদের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত। তাই আমরা ত্রিশটি রোজা রাখব। কোরআন তেলাওয়াত করব। কমপক্ষে আট  রাকাত হলেও জামাতের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করব। আশা করি, আপনারা তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল জানতে পেরেছেন। 
]]>
https://mehenajteam.xyz/2022/03/29/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95.html/feed 0 1180